আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য

Uncategorized

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি। বিসিএমসি কলেজ কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজকের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় উপস্থিত সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি। সেই সাথে উপস্থিত শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও আমার বড় ভাই ও বোনেরা। আমার সহপাঠীবৃন্দ আমার ছোট ভাই ও বোনের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সালাম আসসালামু আলাইকুম।

বক্তব্যের শুরুতে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি যারা ১৯৫২ সালে মাতৃভাষাকে রক্ষা করার জন্য তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। আজকের একুশে ফেব্রুয়ারি ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়। ১৯৪৮ সালে ২১শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে এবং তিন দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভাষণ দিলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।

পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল বাঙালিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিবেনা। আরবি হরফে বাংলা প্রচলনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হয়ে খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় এসে দম্ভের সাথে বলেন একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের  রাষ্ট্রভাষা।৩১ জানুয়ারি প্রতিবাদী ছাত্র নেতারা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

২০শে ফব্র্য়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। স্বৈরশাসকের আইন অমান্য করে একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমতলায় জড়ো হন। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে তারা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বেরিয়ে আসেন রাজপথে পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের নির্দেশে ছাত্রদের মিছিলের উপর গুলি চালানো হয় এতে নিহত হন আব্দুল জব্বার, রফিক উদ্দিন আহমেদ, শফিউর রহমান, আব্দুস সালাম, আবুল বরকত সহ নাম জানা না জানা আরও অনেকে।

অমর একুশের স্মৃতির স্মারক আমাদের শহীদ মিনার। এই মিনারের সাথে মিশে আছে অনেক রক্ত অশ্রুজল মিশে আছে তারুণ্যের গৌরবগাথা।১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দাবিতে নিহতদের স্মরণে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনারটি স্বৈরশাসকের নির্দেশেই ২৩শে ফেব্রুয়ারি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ভয় কি বন্ধু ?

আমরা এখনো চারকোটি পরিবার রয়েছে খাড়া।

অমর একুশের চেতনা থেকেই বাঙালি আবার তার অধিকার সম্পর্কে ভাবতে থাকে। বাঙালি জাতি বিশ্বের প্রথম যারা নাকি নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করার জন্য নিজের প্রাণকে উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করেনি। আমরা তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি যাদের প্রাণের বিনিময় আমরা আজ বাংলা ভাষা আমার মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারছি।১৯৯৯ সালে ১৭নভেম্বর ইউনেস্কো প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এই স্বীকৃতির পিছনে অবদান রয়েছে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল সালাম। যার ফলে ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য ভুক্ত দেশগুলো যথাযথ মর্যাদায় সাথে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

নানান দেশের নানান ভাষা।

বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা ?

যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আবার ২০০৯ সালে জাতিসংঘের ৬৪তম অধিবেশনে দ্বিতীয়বার বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। আমার বক্তব্য দীর্ঘায়িত করবো না বক্তব্য শেষ করার আগে আমি আবারও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য এখানেই শেষ করছি আসসালামু আলাইকুম।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও ourbdtips.com  অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, পরামর্শ, আপনার জেলার খবর, রূপচর্চা, ফ্যাশন, ঘরোয়া টিপস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ছবিসহ মেইল করুন iam05ashik@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখাটি আপনার নামও ছবিসহ প্রকাশিত।] আমাদের ফেসবুক পেজ ourbdtips.com ও আপনার পরামর্শ মতামত জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *