ই-পাসপোর্ট কি ? ই-পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যাবে।

Uncategorized

আসসালামু আলাইকুম ourbdtips.com এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আসুন আমরা সকলেই জেনে নিই। ই-পাসপোর্ট কি ? ই-পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যাবে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ই-পাসপোর্ট এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কিছু জটিলতার কারণে কয়েক দফায় পেছানো হয়। অবশেষে ২০২০ সালে ২২শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ই-পাসপোর্ট কি ? ই-পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যাবে।

ই-পাসপোর্ট কি ?

ই-পাসপোর্ট এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট। বাংলাদেশ ১১৯ তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করছে। বিশ্বে ১২৩ টি দেশ বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু আছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা,আফগানিস্তান ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু আছে। বর্তমানে এমআরপি যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট এর মতোই ই-পাসপোর্ট বইও একই রকমের থাকবে। তবে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট এর প্রথমে যে তথ্য সংবলিত দুটি পাতা থাকে তা ই-পাসপোর্টে থাকবে না।

ই-পাসপোর্ট পলিমারের তৈরি একটি কার্ড ও এন্টেনা থাকবে। সেই কার্ড এর ভিতরে একটি চিপ থাকবে। ই-পাসপোর্টে চিপ মধে ব্যবহারকারী সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ। ফলে যেকোনো দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সহজেই ভ্রমণকারী সকল তথ্য সহজেই জানতে পারবেন।পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলেন, এটি অত্যন্ত নিরাপত্তা সংবলিত একটি ব্যবস্থা।

তিনি আরো বলেন ই-পাসপোর্টে  ৪১টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে । ই পাসপোর্ট এটার মধ্যে ২৬টি তথ্য রয়েছে যা হয়তো আপনারা খালি চোখে দেখতে পারবেন। ই-পাসপোর্টে ১৩টি তথ্য আছে যেটা দেখার জন্য কিছুটা ইলেকট্রনিক গেজেট লাগবে এবং বাকি দুটি দেখার জন্য স্পেশাল গেজেট লাগবে স্পেশাল গেজেট ছাড়া বাকি দুটি তথ্য দেখা অসম্ভব। তাই বলা যায় ই পাসপোর্ট জালিয়াতি করা অসম্ভব একটি কাজ।যে কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখন ই-পাসপোর্ট ব্যবহার শুরু করেছে। আমরাও সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছি।

ই-পাসপোর্ট কোথার তৈরি হচ্ছেঃ

ই-পাসপোর্ট সাধারণত জার্মানিতে তৈরি হচ্ছে। জার্মানির একটি কোম্পানি সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি হয়। সে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার জার্মানি থেকে ২ কোটি ৭২ লাখ  ই-পাসপোর্ট নিয়ে আসবে। ইতিমধ্যে জার্মানির কোম্পানিটি ২০লাখ  ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করেছে। পরবর্তীতে যদি আরো ই- ই-পাসপোর্ট লাগে তাহলে বাংলাদেশেই তা তৈরি করা হবে বলে জানিরেছেন বাংলাদেশ সরকার।

এমআরপি আর এ পাসপোর্ট এর মধ্যে পার্থক্যঃ

এমআরপি এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট । ই-পাসপোর্ট এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট।এর মধ্যে পার্থক্যকে তুলনা করা যেতে পারে। এমআরপি অনেকটা চেকবইয়ের মত আর ই-পাসপোর্ট হল এটিএম কার্ডের মত। এমআরপির যত ই-পাসপোর্টে সিল দিতে হবে না।ই-পাসপোর্ট এ জন্য কোন ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়াতে হবে না‌। ই-পাসপোর্ট ব্যবহারকারীরা নিজেরাই ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্টের সুবিধাঃ

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলেনম, ই পাসপোর্ট এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে খুব দ্রুত ও সহজেই ভ্রমণকারী যাতায়াত করতেপারবেন।ই-গেট ব্যবহার করে তারা যাতায়াত করবেন ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিং এর জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ই-পাসপোর্ট এর মাধ্যমে দ্রুত ইমিগ্রেশন হয়ে যাবেন।ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার জন্য ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে এবং থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও।

 সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পার হয়ে যেতে পারবেন। যদি কোন প্রকার গরমিল থাকে তাহলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করবে। ই-পাসপোর্ট এর মাধ্যমে যদি কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে থাকলে সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারাযাবে।ইন্টার্নেশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)এই পিরোড পরিচালনা করার ফলে ইন্টারপোল সহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্ট এর মেয়াদকাল কত বছর

ই-পাসপোর্ট এর মেয়াদকাল আপাতত পাঁচ বছর ও১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট দেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছে সরকার।

ই-পাসপোর্ট ৫বছর মেয়াদী করতে কত টাকা ফি লাগবে

৫বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার পাসপোর্ট স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ২১ দিনে মধ্যে পেতে ফি জমা দিতে হবে ৪,০২৫ টাকা। একই পাসপোর্ট ১০ দিনের মধ্যে পেতে ফি জমা দিতে হবে ৬,৩২৫ টাকা এবং দুই দিনের মধ্যে পেতে হলে ফি জমা দিতে হবে ৮,৬২৫ টাকা।

 অন্যদিকে ৫বছর মেয়াদী ৬৮ পাতার পাসপোর্ট  ২১দিনে পেতে ৬,৩২৫ টাকা ফি জমা দিতে হবে।একই পাসপোর্ট ১০ দিনের মধ্যে পেতে হলে ফি জমা দিতে হবে ৮,৬২৫ টাকা এবং দুই দিনের মধ্যে পেতে হলে ফি জমা দিতে হবে ১২,০৭৫ টাকা ।

ই-পাসপোর্ট ১০বছর মেয়াদী করতে কত টাকা ফি লাগবে

১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ২১ দিনের মধ্যে পেতে হলে ৫,৭৫০ টাকা ফি জমা দিতে হবে।একই পাসপোর্ট ১০ দিনের মধ্যে পেতে হলে ৮,০৫০ টাকা এবং২ দিনের মধ্যে পেতে হলে ১০হাজার ৩৫০ টাকা ফি জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে ১০বছর মেয়াদী ৬৪ পাতার পাসপোর্ট পেতে হলে ২১দিনের মধ্যে পেতে হলে ফি জমা দিতে হবে ৮,০৫০ টাকা।একই পাসপোর্ট ১০ দিনের মধ্যে পেতে হলে ১০হাজার ৩৫০ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি মাধ্যমে মাত্র ২ কর্মদিবসের মধ্যে পেতে হলে ফি দিতে হবে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা।

ই-পাসপোর্ট কি ? ই-পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যাবে।

ই-পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যাবেঃ

ই-পাসপোর্ট এর জন্য সাধারণত এমআরপি মত অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। ই-পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ঘরে বসেই ইমিগ্রেশন  বা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাপ্লিকেশন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ৬৪জেলাতে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনলাইনে এপ্লিকেশন করা ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।

 জমা দেওয়ার পর ই-পাসপোর্ট ধারীদের  ছবি তোলা হবে এবং আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হবে ও চোখের আইরিশ নেওয়া হবে। তারপর পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে পাসপোর্ট অফিস থেকে আপনাকে ই-মেইল করা হবে। ই-মেইলের মাধ্যমে আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারি সময় নির্ধারণ করা হবে বা যখন আপনি কাগজপত্র জমা দিবেন তখন আপনার ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে দেওয়া হবে।ডেলিভারি স্লিপের তারিখে গিয়ে আপনার ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে।

এমআরপি পাসপোর্ট কি বাতিল হয়ে যাবেঃ

ই-পাসপোর্ট চালু হলে এমআরপি পাসপোট বাতিল হয়ে যাবেনা। বরং এমআরপি পাসপোর্ট যেরকম চলতেছিল ঠিক সে রকমই চলবে এমআরপি পাসপোর্ট এর মাধ্যমেও ভ্রমণ করা যাবে। আগের মতই এমআরপি পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন করা হবে। তাই যাদের এমআরপি পাসপোর্ট রয়েছে তাদের কোন চিন্তা নেই তারাও বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবে আগের মত। ‌

ই-পাসপোর্ট এ কি ভিসা করতে হবেঃ

এমআরপি পাসপোর্ট এর মত ই-পাসপোর্টে ভিসা নিতে হবে। এমআরপি পাসপোট যেরকম ভিসা নিতে হয় ঠিক সেরকম ই-পাসপোর্টও ভিসা নিতে হবে। ই-পাসপোর্ট শুধু ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে দ্রুততর করেছে।

ই-পাসপোর্ট সাধারণত তিনটি রঙে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে তা হল, লাল, নী্‌ল, সবুজ।

সবুজ ই-পাসপোর্টঃ

সবুজ ই পাসপোর্ট সাধারণত সাধারণ জনগণের জন্য। সবুজ ই-পাসপোর্ট সাধারণ জনগণ ব্যবহার করতে পারবে।

নীল ই-পাসপোর্টঃ

নীল রঙের এ ই-পাসপোর্ট কে অফিসিয়াল পাসপোর্ট বলা হয়। সরকারি কাজে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারে। সরকারি কাজ ব্যতীত কোন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবে না।

লাল ই-পাসপোর্টঃ

লাল রংয়ের এ ই-পাসপোর্ট কে বলা হয় কূটনৈতিক পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট সাধারণত রাষ্ট্রের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যরা  ব্যবহার করতে পারবেন।

ই-গেট কোথার কোথার তৈরি হচ্ছেঃ

ই-পাসপোর্ট কি ? ই-পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যাবে।

ই-পাসপোর্ট ধারীদের জন্য দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দেশের দুটি স্থলবন্দর বেনাপোল ও বাংলাবান্ধাতে বসছে ৫০টি ই গেট। এরমধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬টি গেটের মধ্যে ৯টি বসে গেলেও সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এবং স্থলবন্দরে এখনো কোনো ই-গেইট স্থাপনা তৈরি হয়নি।পাসপোর্ট অধিদপ্তরে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলেন ই-পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে পৌঁছে গেলেই এ সময়ের মধ্যেই আমরা ই-গেট বসিয়ে ফেলতে পারবো। যদি ই- গেট বসে নেওয়া যায় তাহলে ই-পাসপোর্টধারীরা কিন্তু সাধারণ ইমিগ্রেশন এর মাধ্যমেও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবে।

ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আরো জানতে বা পাসপোর্ট সম্পর্কে যেকোনো তথ্য জানতে ইমিগ্রেশন বা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করুন। সকলকে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *