করোনা ভাইরাস কি? এর লক্ষণ ও প্রতিকার

Uncategorized

করোনা ভাইরাস কি? এর লক্ষণ ও প্রতিকারঃ

আসসালামু আলাইকুম ourbdtips.com এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আসুন আমরা সকলেই জেনে নিই। করোনা ভাইরাস কি?এর লক্ষণ ও প্রতিকার। কোথা থেকে এল এ করোনা ভাইরাস? কি কি লক্ষণ দেখা যায়? এর কি কোন চিকিৎসা আছে?

সাম্প্রতিক নতুন একটি ভাইরাসের খবরে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ববাসী এটি হলো করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই নিয়ে বিশ্বের সব দেশ কে সতর্ক করে দিয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ নিয়েও নেয়া হয়েছে সতর্ক ব্যবস্থা। করোনা ভাইরাস কি? এর লক্ষণ ও প্রতিকার।

করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস এমন একটি সংক্রমণ ভাইরাস যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির আরেক নাম 2019 এন সি ওভি। করোনা ভাইরাস এর অনেক রকমের প্রজাতি রয়েছে কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এ ভাইরাস হয়তো মানুষের দেহকোষে ভেতরে ইতিমধ্যে নিউটেড করছে। অথাৎ ভাইরাসটি তার গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে ‌ এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি আরও বেশী বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

কোথা থেকে এল এ ভাইরাস?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা ভাইরাসটির উৎস কোন প্রাণী। মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের ওহান শহরে সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বিক্রি হয় এমন একটি বাজার থেকে করোনা ভাইরাস ভাইরাস পরিবারের আছে। তবে এ ধরনের ৬টি ভাইরাস আগে পরিচিত থাকলেও এখন মানুষ যেটিতে দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছে সেটি নতুন।

বেশিরভাগ করোনাভাইরাস বিপদজনক নয়। কিন্তু আগে থেকে অপরিচিত নতুন ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারি’র দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসে চীনের অবস্থাঃ

চীনে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তে ৫৬ জন মারা গিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২হাজারেরও বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে এই করোনা ভাইরাসে। এই করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের অর্থনৈতিক হুমকির মুখোমুখি যদি এটি ঠিক ভাবে কাটিয়ে ওঠা না যায় তাহলে চীনের একটি  বড় ধরনের অর্থনৈতিক  ক্ষতি হয়ে যাবে।

চীনের ওহান শহরে প্রায় সাড়ে ৫কোটি মানুষ এই ভাইরাসের আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। চীনের সরকার এই করোনা ভাইরাসের কারণে  ওহান শহর বাস সার্ভিস আপাতত বন্ধ রেখেছে যাতে করে এই করোনা ভাইরাসে ছড়াতে না পারে। বাস সার্ভিস বন্ধ থাকার কারণে ওহান শহরে পানি ও খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।

ওহান শহরের মেয়র কিছু বাস ছাড়ার চিন্তা ভাবনা করতেছেন যে বাস গুলো খাবার পানি ঔষধ  মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি ব্যবস্থা করা হবে। চীনে করোনা ভাইরাসে কারণে বড় বড় সম্মেলন এবং সামনে নববর্ষ সবচেয়ে বড় বড় অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চীনের কিছু বড় পার্কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চীনের বন্যপ্রাণী রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা করেছেন চীন সরকার। নতুন একটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে চীনের মানুষ এখন আর পারস্পরিক করমর্দন করা যাবে না ধরাছোঁয়ার বাইরেই সারতে হবে যোগাযোগ। চীনের প্রেসিডেন্টের কণ্ঠেও উদ্বেগের বার্তা।

এক সপ্তাহের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে ১৩০০ শয্যার একটি হাসপাতাল যেখানে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে।এবং ৬দিনের মধ্যে আরো একটি ১০০০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি করবে চীন সরকার সেখানেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা বলছেন চীনের একা পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে না চাই বৈশ্বিক সহযোগিতা।

কি কি লক্ষণ দেখা যায়?

করোনা ভাইরাস কি? এর লক্ষণ ও প্রতিকার। জ্বর,কাশি,শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা মূলত প্রধান লক্ষণ। এ ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে ছড়ায়। সাধারণত ঠান্ডা লাগার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় কাশি,শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণ দেখা পাই ৫-১৪-দিন লাগে।

 লক্ষণঃ

১। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর তারপর শুকনো কাশি।

২।সর্দি, গলা ব্যথ্‌ মাথা ব্যথা, মারাত্মক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। ‌

৩। এক সপ্তার মধ্যে দেখা দিয়ে শ্বাসকষ্ট তখন কোন কোন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

এই ভাইরাস কতটা বিপদজনক সেটা একটা প্রশ্ন এখন পর্যন্ত আক্রান্তের ২ শতাংশ মারা গিয়েছেন। আরো মারা যেতে পারে। তাছাড়া এমন মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত হয়নি। তাই এই ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর তা এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি।

কত দ্রুত ছড়াতে পারে এই ভাইরাস?

এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে এবং বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এই ভাইরাস একজন মানুষের দেহ থেকে অন্য জন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে। এই ভাইরাসটি এখন চীনের অন্য শহর এবং চীনের বাইরে থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে ও ছড়িয়ে পড়েছে।অস্ট্রেলিয়ায়,জাপানের ১জন থাইল্যান্ডের ২জন করোনা  ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তি সনাক্ত করা গেছে।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন করে ব্যাক্তি শনাক্ত করা হয়েছে।চীন কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হলো নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিশ্বজুড়ে চীনে ভ্রমণ করে ।তখন এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এই ভাইরাস যাতে না ছড়ায় সে জন্য বিশ্বের সব বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে ‌।

বাংলাদেশের সর্তকতাঃ

ঢাকায়  শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা। তবে বাংলাদেশে এই ভাইরাস দ্বারা এখনো কোনো মানুষ আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে (আই ই ডি সি)আর এ  সংস্থার স্বাস্থ্য কর্মীদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের পর এইসব স্বাস্থ্য কর্মীদেরকে বিমানবন্দরে হেল্প ডেক্স পাঠানো হচ্ছে। যেসব ফ্লাইট চীন থেকে আসছে সেসব ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্যানিং করা হচ্ছে। এছাড়া ও বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন,এয়ারলাইন্, এবং এভিয়েশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সবাইকে সচেতন করছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

চীনে থাকা বাংলাদেশীদের জন্য চারটি হটলাইন খুলেছে (আই ই ডি সি)।বাংলাদেশ দূতাবাস যে চারটি হটলাইন খুলেছে সেটিতে কোন সুবিধা পাছে না বলে  অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রবাসী বাংলাদেশিরা চাই তাদেরকে যেন দেশে  যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করা হয়।

বিমানবন্দরে যে এলইডি মনিটর রয়েছে সেখানে রোগের লক্ষণগুলো দেখানো হচ্ছে। এর কারণ হলো যদি এই লক্ষণগুলো যদি কোন ভ্রমণ যাত্রী থেকে থাকে তাহলে হেল্প ডেক্স যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে ‌।

এর কি কোন চিকিৎসা আছে?

যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন সেহেতু এ রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই যায়। এই রোগ ঠেকাতে পারে এমন কোন ঔষধ তৈরি হয়নি। তাহলে এই ভাইরাস এর হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই।

অবশ্যই উপায় আছে উপায় হল, ইতিমধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছে বা এই ভাইরাস বহন করছে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা। ডাক্তারের পরামর্শ দিয়েছেন,ঘরের বাইরে গেলে মাক্স পড়তে হবে। হাত দিয়ে নাক মুখ স্পর্শ না করা বারবার হাত ধোয়া।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে যা করবেনঃ

১। ঘরের বাইরে গেলে মাক্স ব্যবহার করুন।হাত দিয়ে নাক মুখ স্পর্শ না করা বারবার হাত ধোয়া।

২। গণপরিবহন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

৩।প্রচুর ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৪। বাইরে গেলে ঘরে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। ‌

৫। কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

৬। মাছ, মাংস কিংবা ডিম রান্নার সময় ভালো করে সিদ্ধ করুন।

৭। ময়লা কাপড় নিয়মিত  ধুয়ে ফেলুন।

৮। নিয়মিত থাকার ঘর এবং কলেজের ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখুন।

৯। সুরক্ষিত থাকতে অবশ্যই মাক্স ব্যবহার করুন অপ্রয়োজনে ঘরের দরজা জানালা খুলবেন না।

আপনার সচেতনতা পারে আপনার জীবন বাঁচাতে। তাই নিজে সচেতন হোন অপরকে সচেতন করুন।করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযারি চিকিৎসা নিন নিজে সুস্থ থাকুন অপরকেও সুস্থ রাখুন।

সকলকে সচেতন করাতে অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করুন।সকলকে ধন্যবাদ।

3 thoughts on “করোনা ভাইরাস কি? এর লক্ষণ ও প্রতিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *