চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী

Sport News

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলীঃ

আসসালামু আলাইকুম ourbdtips.com এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আশাকরি সকলে ভালো আছেন। তুলসি গাছের আছে নানা রকমের প্রাকৃতিক গুনাগুণ।ওষুধ হিসেবে যেমন তুলসি পাতার রস সুপরিচিত তেমনি রূপচর্চায় ও এর নানাবিদ ব্যবহার রয়েছে। চুলের যত্নে এটি বেশ কার্যকরী। জেনে নিন চুলের যত্নে তুলসি পাতা কিছু ব্যবহার-

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী

১. খুশকি দূর করতে তুলসী পাতার ব্যবহারঃ

খুশকি খুব গুরুতর সমস্যা। এর ফলে স্ক্যাল্পে ইনফেকশন পর্যন্ত হতে পারে এছাড়া চুল পড়ার সমস্যাও কিন্তু এই খুশকি থেকে শুরু হয়। খুশকি দূর করতে তুলসী পাতার ব্যবহার শুরু করুন এখন থেকেই।

উপকরণঃনারকেল তেল পরিমাণ মতো, তুলসী পাতা ১-২ টি।

পদ্ধতিঃ

প্রতিদিন রাতে নারকেল তেলের সাথে একটি বা দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায় ওই তেল স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে নিন। এতে খুশকি চিরতরে দূর হবে।এভাবে ২-৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

২. চুলের অকালপক্কতা দূর করতে তুলসী পাতার ব্যবহারঃ

চুল অকালেই অনেকেরই সাদা হয়ে যায়। এটি রোধ করার জন্যও কিন্তু রামতুলসী পাতা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

উপকরণঃতুলসী পাতা ৩ টি, আমলকী ১/৪ টি, নারকেল তেল পরিমাণ মতো।

পদ্ধতিঃ

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী। তুলসী পাতা ও আমলকী একসাথে নারকেল তেলে ফুটিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এবার ওই তেল ভালো করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। এতে কিন্তু চুলের অকালপক্কতা সহজেই রোধ করা যায়।এভাবে ২ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

৩. স্ক্যাল্প ইনফেকশন রোধ করতে তুলসী পাতার ব্যবহারঃ

তুলসী পাতা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান বর্তমান। তাই এটি যেকোনো রকম স্ক্যাল্প ইনফেকশনকে দূর করে। স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

উপকরণঃতুলসী পাতা ৪ টি, লেবুর রস ১ চামচ, নারকেল তেল ১ চামচ।

পদ্ধতিঃ

তুলসী পাতা বেটে তার সাথে লেবুর রস ও নারকেল তেল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে স্ক্যাল্পে মাখুন। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এভাবে ৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

৪. চুল পড়া রোধ করতে তুলসী পাতার ব্যবহারঃ

চুল পড়া বন্ধ করার জন্য তুলসী পাতা ম্যাজিকের মত কাজ করে। এটি স্ক্যাল্পে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়িয়ে তোলে, হেয়ার ফলিকলগুলিকে রিজুভিনেট করে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়।

উপকরণঃতুলসী পাতা ৪ টি, হেয়ার অয়েল যেকোনো পরিমাণ মতো।

পদ্ধতিঃ

তুলসী পাতার পেস্ট বানিয়ে আপনার হেয়ার অয়েলের সাথে মিশিয়ে মাথায় মাখুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন।এভাবে ২-৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

৫. চুলের রুক্ষতা দূর করতে তুলসী পাতার ব্যবহারঃ

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী। মেয়েটির চুল রুক্ষ শুষ্ক চুলকে মসৃণ ও নরম করার জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার বেশ কার্যকরী।

উপকরণঃতুলসী পাতার পেস্ট ২ চামচ, দই ১ চামচ, নারকেল তেল পরিমাণ মতো।

পদ্ধতিঃ

তুলসী পাতা পেস্ট বানিয়ে তার সাথে দই ও নারকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগান। ১ ঘন্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু করে। সপ্তাহে ২ দিন এই হেয়ার প্যাক আপনার চুল মসৃণ করে তুলবে।এভাবে ২ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

৬। চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী। চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য ও চুলকে সিল্কি করার জন্য ও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ দিন তুলসী পাতার গুড়া ব্যবহার করবেন।
তুলসী পাতার গুণ গুনে শেষ করা অসম্ভব। চুল ও ত্বকের সাথে সাথে আমাদের শরীরের নানা সমস্যা দূর করতেও এটি অত্যন্ত উপকারী। তাই এই টিপস অনুযায়ী চুল ও ত্বকের যত্ন নিতে তুলসী পাতা ব্যবহার করা শুরু করুন। এই তুলসী পাতার বদলে কিন্তু ড্রাই তুলসী পাউডার ও আপনি ব্যবহার করতেপারেন।

যদি আপনার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন অপরকেও সুস্থ রাখুন। সকলকে ধন্যবাদ।

তুলসী পাতার গুনাগুণঃ

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী। ঔষধি গুণসম্পন্ন বেসিল বা তুলসী পাতার সৌন্দর্য উপকারিতাও অসাধারণ। তুলসী পাতায় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও প্রোটিন থাকে। তুলসী পাতা ত্বককে সুস্থ ও পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক হেডস, ব্রণসহ ত্বকের অনেক সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখে তুলসী পাতা। তুলসী পাতার সৌন্দর্য উপকারিতার বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

১। ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণ দূর করেঃ

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী। তুলসী পাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে বলে ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এই হার্বটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করতে এবং মুখের ধুলোময়লা দূর করতে সাহায্য করে। তুলসী পাতার রসের সাথে সামান্য হলুদ মিশিয়ে মুখে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এভাবে ২-৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

২। দাগ দূর করেঃ

মুখের দাগ কেউই পছন্দ করেন না। মুখের দাগকে হালকা করতে সাহায্য করে তুলসী পাতা। ব্রণের দাগসহ অন্যান্য দাগও নিরাময় করতে সাহায্য করে তুলসী পাতা। কিছু তুলসী পাতা পিষে নিন। এর সাথে ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। এই মাস্কটি মুখে লাগান।এভাবে ৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

৩। ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়ঃ

তুলসী পাতা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ বলে এটি ত্বকে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল হতে সাহায্য করে। কয়েকটি তুলসী পাতা থেঁতলে রস বের করে নিন। এর সাথে ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি আপনার ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান।এভাবে ২ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

৪। অ্যান্টি এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ

বয়সের ছাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে তুলসী পাতা। তুলসী পাতার ব্যবহারে আপনাকে প্রাকৃতিকভাবেই কমবয়সী দেখাবে। তুলসী পাতার পেস্টের সাথে সামান্য তেল এবং ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সন্তোষজনক ফল পাওয়ার জন্য দিনে ২ বার ব্যবহার করুন।এভাবে ২-৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন। চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী।

৫। ত্বকের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করেঃ

চুলের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার ও গুণাবলী। তুলসীতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে বলে ত্বকের সংক্রমণ ভালো করতে পারে। তুলসী পাতার পেস্টের সাথে আধাকাপ দই মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি আপনার মুখে বা ত্বকের আঘাতের স্থানে লাগান। এভাবে ২ সপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাবেন।

যদি আপনার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন অপরকেও সুস্থ রাখুন। সকলকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *