বিএসটিআই লাইসেন্স কিভাবে পাওয়া যায়

Uncategorized

আসসালামু আলাইকুম ourbdtips.com এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আসুন আমরা সকলেই জেনে নিই, বিএসটিআই লাইসেন্স কিভাবে পাওয়া যায়। বিএসটিআই মানে হল – বাংলাদেশ স্টান্ডার্স এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন। এই প্রতিষ্ঠানের কাজ হল – খাদ্যদ্রব্য, কৃষিপণ্য, পাটবস্ত্র, রাসায়নিকপদার্থ এবং বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকি করা। 

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫৪ টি পন্যেকে বাজারজাত করণ করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে বিএসটিআই এর অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া অন্যান্য পন্য দ্রব্য চাইলেই বিএসটিআই  এর  অনুমোদন নিতে পারবে। অর্থাৎ সরকারি তালিকাভুক্ত ১৫৪ টি পন্য বাজারে  বিক্রি করতে চাইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিককে অবশ্যই বিএসটিআই থেকে অনুমোদন  নিতে হবে । এছাড়া তালিকার বাহিরে থাকা অন্যান্য পন্য দ্রব্য উৎপাদনকারী  প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে বিএসটিআই থেকে অনুমোদন নিয়ে রাখতে পারে । তবে তাদের জন্য বিএসটিআই থেকে অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

বিএসটিআই এর বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের তালিকাভুক্ত ১৫৪টি পন্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ ভোজ্য তেল, চিনি, আটা, ময়দা, সুজি, পাউয়া রুটি, বিস্কুট, কেক, জুস,  আইসক্রিম, খাবার পানি, সাবান, স্নো, পাউডার, ডিটারজেন, টুথপেস্ট, হেয়ার  অয়েল, লিপিস্টিক, সেভিং ক্রিম, সিমেন্ট, বৈদ্যুতিক তার , বৈদ্যুতিক যন্তপাতি ইত্যাদি।

প্রথমেই দেখে নেই  বিএসটিআই  থেকে অনুমোদন পাওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র থাকতে হবেঃ

০১. প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের কপি।

০২. ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের কপি।

০৩. TIN সার্টিফিকেটের কপি।

০৪. পন্য উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির তালিকা।

০৫. পন্য উৎপাদনের প্রসেস ফ্লো চার্ট।

০৬. কারখানার লেয়াউট।

০৭. পন্যের মোরক/ লেবেলে থাকা সকল তথ্যবলী।

০৮. পন্য উৎপাদনের উপাদানগুলোর বিবরন। এছাড়া প্রয়োজন মাফিক আরো কাগজপত্র লাগতে পারে।

উপরোক্ত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত করে এবার আপনাকে জেতে হবে তেজগাঁও শিল্প  এলাকার বিএসটিআই এর অফিসে । সেখান থেকে বিএসটিআই লাইসেন্সের আবেদন ফরম নিতে হবে। আপনি চাইলে নিচের ওয়েবসাইট থেকেও আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। অথবা অনলাইনে আবেদন করতে পানে। আবেদন ফরম যথাযথভাবে পুরন করে নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিতে হবে।

আবেদন ফি  প্রাদানের পর সমস্ত কাগজপত্রগুলো একত্র করে বিএসটিআই ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এ জমা প্রদান করতে হবে । সেখান থেকে তারা আপনাকে একটি অনুমোদন  শ্লিপ প্রদান করবে । এরপর সাধারণত ১-২ মাসের মধ্যে বিএসটিআই কর্মকর্তারা  আপনার কারখানা পরিদর্শন করবে । সেখানে গিয়ে তারা আপনার কারখানার উৎপাদিত  পন্য থেকে কিছু পন্য স্যাম্পল হিসবে সিল করবে এবং আপনার কারখানার নানা রকমের  বিষয়গুলো যাচাই করে দেখবে ।

আপনার কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং শ্রমিকদের পারিশ্রমিক এবং সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি বিষয় দেখবে এবং যাচাই-বাছাই করবে। আপনার কারখানায় যদি আগুন লেগে যায় সেটা নিভানোর জন্য কোন ব্যবস্থা আছে কিনা সেটাও তারা দেখবে। আপনার কারখানায় যে পণ্য উৎপন্ন হয় সে পণ্য গুলো কি দিয়ে উৎপন্ন হয় তা তারা পরীক্ষা করবে।

এরপর আপনাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে  নির্ধারিত টেস্টিং ফি প্রদানপূর্বক  তাদের সিলকৃত পুনরায় বিএসটিআই এর ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এ গিয়ে জমা প্রদান করতে হবে। এরপর বিএসটিআই  ল্যাবে  আপনার পন্যের পরীক্ষা করা হবে এবং মান যাচাই করা হবে। বিএসটিআই  এর নির্ধারিত  মানের সাথে যদি আপনার উৎপাদিত পন্যের মান সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তারা  আপনাকে চূরান্ত লাইসেন্সের জন্য জানাবে।

চূড়ান্ত লাইসেন্স ফি প্রাদানের মাধ্যমে আপনি পেয়ে জাবেন বিএসটিআই  এর লাইসেন্স। কোন সময় যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিএসটিআই এর মান সম্পূর্ণ না হয় তাহলে আপনার লাইসেন্সটি বাতিল ঘোষণা করতে পারে এবংআপনার প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিতে পারে। এই ক্ষমতা বিএসটিআই আছে। বিএসটিআই লাইসেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন http://www.bsti.gov.bd/

প্রিয় পাঠক, আপনি ও ourbdtips.com  অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, পরামর্শ, আপনার জেলার খবর, রূপচর্চা, ফ্যাশন, ঘরোয়া টিপস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ছবিসহ মেইল করুন iam05ashik@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখাটি আপনার নামও ছবিসহ প্রকাশিত। আমাদের ফেসবুক পেজ ourbdtips.com ও আপনার পরামর্শ মতামত জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *