ব্লগ তৈরি করার নিয়ম (মাত্র ১২ মিনিটেই!)

blogs Online Earning

যারা ঘরে বসে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে চান তাদের  জন্য ব্লগ হলো অন্যতম মাধ্যম।আবার অনেকেই এই কথা শুনলে লাফ দিয়ে উঠেন যে, অনলাইনেও টাকা ইনকাম করা যায়? আমি বলবো যায়! অবশ্যই যায়।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার শত দিক রয়েছে। তবে, সব কিছু আজকে আলোচনা করার আমার দ্বারা সম্ভব নয়।তাই আমি শুধু আজকে আলোচনা করবো কিভাবে ব্লগ তৈরি করা যায়? কিভাবে ব্লগের মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে  টাকা ইনকাম  করা যায়? বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো….

ব্লগ (blog) কি ?

ব্লগ হলো একটি ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিগত পত্রিকা। সেখানে ব্লগাররা প্রতিনিয়ত তার বা অন্যের জীবনী বা দেশ ও ধর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করে থাকে।এবং সেখানে পাঠক-পক্রিয়া তথা মন্তব্য করারও সুযোগও থাকে।আর এটা হলো ব্লগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এছাড়াও বর্তমানে ব্লগ অনলাইনে  টাকা ইনকাম করার আলাদা একটা সোর্স হিসেবেও দাড়িয়েছে।এবং সারা বিশ্বে ব্লগ এখন জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম হয়ে উঠছে।যেখানে প্রতিটি সংবাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়।এই হলো ব্লগের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

ব্লগার কারা ?

বাংলাদেশে  ব্লগার শব্দটার অপব্যবহার হয়ে থাকে।সাম্প্রতিক কিছু নাস্তিক ব্লগার ব্লগের মাধ্যমে বিশ্ব নবি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে নিয়ে কটুক্তি করার পর বিভিন্ন আলেমেরা ওয়াজ-মাহফিলে নাস্তিক ব্লগার নাস্তিক-ব্লগার বলার কারণে কিছু বাঙালি মনে করছিলো ব্লগার মানিই নাস্তিক।অথচ তা নয়।

আসলে যে বা যারা ব্লগিং করে। অর্থাৎ ব্লগে লেখালেখি বা ব্লগের অন্য  কোন কাজে নিযুক্ত থাকে তাদেরকেই ব্লগার বলা হয়। আর ব্লগে যে সমস্ত কাজ করা হয় ওই সমস্ত কাজকেই ব্লগিং বলে থাকে।

ব্লগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন সমূহ

ব্লগের রয়েছে শতাধিক বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনিয়তা। তারমধ্যে অন্যতম কিছু বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজননিয়তা আমরা নিচে পর্যক্রমে আলোচনা করলাম।

  1. ব্লগের মাধ্যমে যে কোন সংবাদ বিশ্বের এক পান্থ থেকে অন্য পান্থে কোন রকম সরকারি কন্ট্রোল ও ফ্রেন্ডলিষ্টে ছাড়াই পৌঁছে দেওয়া যায়।যা গণমাধ্যম দ্বারা সম্ভব হয়ে উঠে না।
    ব্লগ হলো একটি দিনলিপি। এখানে আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনী ইচ্ছে মত লিখে নিতে পারবেন।
  2. গণমাধ্যমে যখন আপনি আপনার কোন প্রতিভা প্রকাশ করবেন, তখন তা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে যারা আছে তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর ব্লগে যখন আপনি কিছু লিখবেন তখন তা বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে যে কেউ পড়তে এবং দেখতে পারবে।তাইতো ব্লগকে বলা হয় “প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম “।
  3. ব্লগ তৈরি করে খুব সহজেই আপনার কোম্পানির প্রচার করতে পারবেন।তাছাড়াও আমাদের ব্লগেও আপনার কোম্পানি প্রচারের জন্য এড দিতে পারবেন।
  4. বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক রাস্ট্রেই ব্লগ বেচা-কেনার অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাড়িছে।
  5. এসইও (seo) তথা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে হালকা কিছু ধারণা থাকলেও ব্লগ তৈরি করে মাসে ১০০ ডলারেরও বেশি ইনকাম করা সম্ভব।
  6. এছাড়াও ব্লগের আরো বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আমরা অন্যদিন আলোচনা করবো।

ব্লগ তৈরি করার নিয়ম

ব্লগ সম্পর্কে খুঁটিনাটি কিছু ধারণা দেওয়ার পর এবার আপনাদেরকে ব্লগ তৈরি করার নিয়ম শিখাবো।

ব্লগ তৈরি করতে হলে আপনাকে প্রথমে দুইটা জিনিস ক্রয় করতে হবে। ১)ডোমেইন ২)হোস্টিং ।

আপনি যদি নতুন হোন তাহলে হয়তো ডোমেইন হোস্টিং সম্পর্কে আপনার পর্যাপ্ত ধারণা না থাকতে পারে। তাই আমি নতুনদের স্বার্থে নিচে ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করলাম।

ডোমেইন কি ?

Domain শব্দের বাংলা অর্থ হলো রাজ্য বা জমিদারি৷ অনলাইন রাজ্যের কোন নাম/ঠিকানাকেই ডোমেইন বলা হয়।যেমন একটি ডোমেইন।

সহজ ভাষায় বলতে গেলেে ওয়েবসাইটের নামকেই ডোমেইন বলা হয়। যেমন মনে করুন একটি ছেলের নাম মাহমুদ। আপনি আপনার ছোট ভাইকে বলছে যে, মুবাইলটি মাহমুদ সাহেবকে দিয়ে আসো।আপনার ছোট ভাই মুবাইল ঠিক মাহমুদকেই দিবে।

তেমনি যদি একটি ব্লগের নাম দেন  “https://www.dailytmotamot.com . তাহলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আপনাকে ঠিক দৈনিক মতামত ব্লগেই নিয়ে যাবে।অন্য কোথাও নিবে না।

তবে, একটি নাম পৃথিবীর অনেক মানুষেই রাখতে পারে।যেমন – আব্দুল্লাহ নামটি লক্ষাধিক মানুষের রয়েছে।তবে, একটি ডোমেইনের নাম শুধু একজনেই রাখতে পারে। যেমন – http://ourbdtips.com এই নামে আমার এই ব্লগ ছাড়া আর কেউই ডোমেইন নিতে পারবে না।

তবে, আরেকটি কথা হলো ডোমেইন লেভেল পরিবর্তন করে একই নামে আরেকটি ব্লগ তৈরি করা সম্ভব। যেমন – ourbdtips.com এই নামটি ourbdtips.org / ourbdtips.net ডোমেইনেও ব্যবহার করা যাবে।

ডোমেইনের কত প্রকার?

পৃথিবী জুড়ে অনেক ডোমেইন রয়েছে। এর মধ্যে  টপ লেভেলের ডোমেইন হলো .com, .org, .online, .top, .edu, .gov, .info, .net, ইত্যাদি। তাছাড়াও কিছু ক্যাটাগরি টপ লেভেলের ডোমেইন রয়েছে যেমন- .health, .club, .fun, .cat., design, .shop, .service, ইত্যাদি।
রয়েছে নিম্ন মানের .xyz ও অন্যান্য ফ্রি ডোমেইন যেমন – .tk, .pw, ইত্যাদি।

আশা করি উপরের আলোচনা দ্বারা ডোমেইন ও ডোমেইনের প্রকারভেদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পেয়েছেন।এবার আলোচনা করবো হোস্টিং নিয়ে।

হোস্টিং কি?

হোস্টিং বলা হয় ব্লগের স্পেস তথা খালি জায়গাকে। একটি দোকান তৈরি করার পর যেমন দোকানে  অনেক খালি জায়গা প্রয়োজন। তেমনিভাবে একটি ব্লগে কোন লেখা/ফটো/ভিডিও ইত্যাদি রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণ হোস্টিং প্রয়োজন।

এক কথায় বলতে গেলে হোস্টিং হলো মুবাইলের মেমোরি এবং কম্পিউটারের হার্ডিক্স এর মত। মেমোরি খালি থাকলে যেমন মুবাইল দ্রুত চলে, তেমনভাবে হোস্টিং পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলে সাইটও দ্রুত চলে।

হোস্টিং কত প্রকার?

অনলাইন জুড়ে অনেক প্রকারের হোস্টিং রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম কিছু হোস্টিং এর আলোচনা নিম্নে করা হলো।

শেয়ারড হোস্টিং

পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সূলভ মূল্যের হোস্টিং হলো শেয়ারড হোস্টিং।

শেয়ারড হোস্টিং এর বৈশিষ্ট্য ও সমালোচনা

  • সূলভ মূল্যে পাওয়া যায়।সাধারণত ব্লগ সাইট ছোট হয় তাই শেয়ারড হোস্টিং ব্যবহার করলেই চলে।তাছাড়া অত বড় অংকের টাকা প্রথমে কেউই খরচ করতে চায় না।তাই সবাই সর্বপ্রথম শেয়ারড হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।
  •   যে কোন সমস্যার জন্য প্রোভাইডারদের থেকে তৎক্ষনাৎ সহযোগিতা পাওয়া যায়।
  • সিকিউরিটি মোটামুটি উন্নত মানের হয়।
  • খুব সহজেই হোস্টিং আপগ্রেড করা যায়।
  • ব্যবহার বিধি তথা- স্পেস ও জিমেইল -সাবডোমেইন- ব্যান্ডউইথ, ডাটাবেইজ ইত্যাদি সীমাবদ্ধ থাকে।

রিসেলার হোস্টিং

রিসেলার হোস্টিং এর নির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্য নয়।মূলত নিজের হোস্টিং স্পেস অন্যের সাথে শেয়ার করাই হলো রিসেলার হোস্টিং।অর্থাৎ মনে করুন আমি ১০+ জিবি স্পেস কিনলাম ৫ হাজার টাকা দিয়ে, পরে আমি ২ হাজার টাকার বিনিময়ে আপনার ফাইল গুলো আমার স্পেসে রাখার অনুমতি দিব।এটাই মূলত রিসেলার হোস্টিং।

ম্যানেজড  হোস্টিং

ম্যানেজড  হোস্টিং সাধারণ স্পেসের মতই।তবে, ম্যানেজড  হোস্টিং এ রয়েছে একটি অন্য রকম বৈশিষ্ট্য। তাহলো  সার্ভার মেইনটেনেন্স, কনফিগারেশন, সার্ভার স্টোপ, সফটওয়্যার ইন্সটল করা ইত্যাদি সব কিছুই হোস্টিং প্রোভাইডার করে দিবে।

আনম্যানেজড হোস্টিং

আনম্যানেজড হোস্টিং হলো কম দামের জনপ্রিয় স্পেস।মূলত আনম্যানেজড হোস্টিং  সার্ভিস হলো হোস্টিং সার্ভিসের সব কিছু, তথা- সার্ভার মেইনটেনেন্স, কনফিগারেশন, সার্ভার স্টোপ, সফটওয়্যার ইন্সটল করা ইত্যাদি আপনার কন্ট্রোলে থাকবে।এবং সব কিছু আপনাকেই করতে হবে।তাই টাকাও কম খরচ হবে।

ডেডিকেটেড হোস্টিং

ডেডিকেটেড হোস্টিং স্পেস হলো একটি উন্নতমানের হোস্টিং । এটা ব্যবহার সবার ভাগ্যে জুটে না।গুগল,ফেসবুক আরো এরকম বড় বড় সাইটগুলোই ডেডিকেটেড হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।মূলত যখন শেয়ারড হোস্টিং স্পেস কন্ট্রোল করতে পারে না, তখন কোম্পানি গুলো ডেডিকেটেড হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।

ভিপিএস হোস্টিং

 ভিপিএস হোস্টিং হলো শেয়ারড হোস্টিং আর ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের মাঝামাঝি একটি হোস্টিং স্পেস ।কেনা শেয়ারড হোস্টিংয়ে একই সার্ভারে হাজার হাজার সাইট হোস্ট করা থাকে আর আর ডেডিকেটেড সার্ভারে শুধুমাত্র আপনার সাইটই হোস্ট করা থাকে। ভিপিএস হোস্টিং কয়েকজনকে ভাগ করে হোস্ট দেওয়া হয়।

ব্লগ তৈরি করার নিয়ম
ব্লগ তৈরি করার নিয়ম

ফ্রী ওয়েব হোস্টিং

ফ্রী ওয়েব হোস্টিং হলো জনপ্রিয় একটি ওয়েব হোস্টিং। মূলত ব্লগিং শিক্ষা করার জন্যই পরিক্ষা মূলক ভাবে গুগল সহ কিছু কোম্পানি ফ্রী হোস্টিং দিয়ে থাকে।আর এর মধ্যে রয়েছে ব্যান্ডউইথ, স্পেস,মাসিক ভিজিটর এগুলোর সীমাবদ্ধতা।

আশা করি উপরের আলোচনা দ্বারা ডোমেইন ও হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি তা স্পষ্ট হয়েছেন।এখন জানাব থিম কি?

থিম কি?

থিম হলো আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন। অর্থাৎ আপনার সাইটটি দেখতে কেমন হবে? আপনার সাইটের রং কেমন হবে? কোন ক্যাটাগরি কোথায় থাকবে? ইত্যাদি ইত্যাদি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে থিম হলো একটি দোকানের ডেকোরেশন। ডেকোরেশন যত সুন্দর হবে, ভিজিটরও তথ আকৃষ্ট হবে।

উপরে উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা আমরা জেনেছি ডোমেইন ও হোস্টিং এবং থিম কাকে বলে। এখন আপনাদেরকে জানাব ডোমেইন ও হোস্টিং এবং থিম দিয়ে কিভাবে ব্লগ তৈরি করতে হয়।

ব্লগ তৈরি করার নিয়ম

সর্বপ্রথম একটি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করুন। তারপর পর্যাপ্ত পরিমান হোস্টিং স্পেস কিনুন।তারপর থিম নির্বাচন করে ওয়ান ক্লিকের মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করুন।তাহলেই আপনার ব্লগ প্রাথমিক ভাবে তৈরি হয়ে যাবে।

হোস্টিং ও ডোমেইনের দাম কত?

একটি ভালো মানের হোস্টিং সর্বনিম্ন ২৫০+ থেকে সর্বোচ্চ ৬/৭ হাজারও হতে পারে।

১ জিবি শেয়ারড হোস্টিং স্পেস এর দাম সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২১০০ টাকা হতে পারে।

হোস্টিং কোথায় থেকে কিনবেন?

বিদেশি হোস্টিং এর মধ্যে নেমচিপ সহ অনেক ভালো হোস্টিং রয়েছে। বাংলাদেশ জনপ্রিয় সমূহের মধ্যে রয়েছে ডায়না হোস্টি।তবে, আমি ডায়না হোস্ট ব্যবহার করে মজা পাইনি তাই আমি আপনাদেরকে ডায়না হোস্ট ব্যবহার করতে বলবো না।

আমার কাছে দু’টি কোম্পানির হোস্টিং ভালো লাগে।

  1. cyberdeveloperbd খুব ভালো ও দ্রুত গতির হোস্টিং। তাছাড়াও cyber developer bd এর সাপোর্টও খুব ভালো মানের।ব্্যবহা রও খুব সুন্দর।

2 thoughts on “ব্লগ তৈরি করার নিয়ম (মাত্র ১২ মিনিটেই!)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *