রক্তস্বল্পতা কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকার

Sport News

রক্তস্বল্পতা কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকারঃ

আসসালামু আলাইকুম ourbdtips.com এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আসুন আমরা সকলেই জেনে নিই, রক্তস্বল্পতা কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকার। কোন ব্যক্তির বয়স ও লিঙ্গ ভেদে যদি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকে তাকে রক্তস্বল্পতা বলে। রক্তস্বল্পতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আমাদের দেশে প্রধানত যে কারণে রক্তস্বল্পতা বেশি দেখা যায় তা হল, শরীরে লোহার ঘাটতি জনিত রক্তস্বল্পতা।

রক্তের লোহা উপাদানে (হিমোগ্লোবিন) পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে তাকে রক্তস্বল্পতা বলা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী প্রসূতি এবং শিশুদের রক্তস্বল্পতা বেশি হয়। আমাদের রক্তে কয়েক প্রকার রক্ত কণিকা রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লাল রক্ত কণিকা। এ লাল রক্ত কণিকার ভেতরে রয়েছে হিমোগ্লোবিন নামে এক প্রকার পদার্থ।

হিমোগ্লোবিন এর কারনে রক্তের রং লাল দেখায়। হিমোগ্লোবিন রক্তের ভেতরে থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করে। কাজটি হলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যাওয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বের করে দেয়া। শরীরে হিমোগ্লোবিনের গঠনের জন্য দরকার লোহা বা আয়রন।

রক্তস্বল্পতার কারণঃ

পুরুষের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা হয় বেশি। এজন্য মহিলাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ প্রধানত দায়ী। পরিবারে একটি মেয়ে শিশু জন্ম নেওয়ার পর থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত যে নানা ধরনের অবহেলা অযত্নে শিকার হয়। একই বয়সের একটি ছেলে শিশুকে যে খাবার দেওয়া হয় মেয়ে শিশুকে তা দেওয়া হয় না।

ফলে জীবনের শুরু থেকেই মেয়েরা অপুষ্টিজনিত রক্তস্বল্পতার শিকার হয়। বয়সন্ধিকাল থেকে শুরু করে প্রজনন কাল পর্যন্ত মেয়েরা প্রতিমাসে একবার ঋতুবতি হয় এবং তার ফলে প্রতিবারই তাদের শরীর থেকে কিছু পরিমাণ রক্ত বের হয়ে যায়। সন্তান ধারন কালে, গর্ভবতী মায়ের শরীরে বেড়ে উঠা শিশু মায়ের পুষ্টিতে ভাগ বসায়।

মাকে এ সময় বাড়তি খাবার দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য অধিকাংশ মা ই গর্ভবস্থায় বাড়তি খাবার পান না। ফলে মা যেমন রক্ত স্বল্পতায় ভোগেন পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশু অপুষ্টির শিকার হয়ে পড়ে। কারণ কৃমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে শিশুরা অপেক্ষাকৃত বেশি আক্রান্ত হয়। এছাড়া যা থেকে তাদের রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় তা হলঃ

১.হঠাৎ প্রচুর রক্তক্ষরণ।

.বক্র কৃমির সংক্রমণ।

৩.পেপটিক আলসার থেকে রক্তক্ষরণ।

৪.মাসিকের সময় বেশি রক্ত যাওয়া।

.খাদ্যে লৌহের ঘাটতি ও রক্তস্বল্পতার কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। মাছ মাংস খেতে না পারা অথবা লৌহ যুক্ত ফল ও শাক-সবজি কম খাওয়া।

৬.বাড়ন্ত শিশু ও গর্ভবতী মায়ের অধিকা চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে পুষ্টিকর খাবার মাছ মাংস শাক সবজি খেতে না পারা।

রক্তস্বল্পতার লক্ষণঃ

.শরীর বিশেষ করে মুখ ও চোখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। চোখের নিচের পাতায় ভেতরের দিকটা সাদা হয়ে যায়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের চোখের নিচের পাতা ভালোভাবে লক্ষ্য করলে রক্তস্বল্পতা রোগের সাথে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। রক্তস্বল্পতা যত বেশি হবে চোখের নিচের পাতার ভেতরের দিকের রং তত ফ্যাকাশে এবং সাদা হয়ে যাবে।

২.দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঝিমঝিম করা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অল্পে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, কাজ কর্মে অনীহা ,অনিদ্রা ইত্যাদি হতে পারে।

৩.জিহ্বাও ঠোঁট মসৃণ ও সাদাটে হয়ে যাওয়া, মুখের কোনায় ও জিহ্বায় ঘা হওয়া, নখের ভঙ্গুরতা বা চামচের মত হওয়া, অরুচি বমি বমি ভাব ও হজমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

৪.হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় শরীরের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

৫.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সহজেই রোগাক্রান্ত হয় এবং রোগে ভোগে থেকে সুস্থ হতে অনেক সময় লাগে।

৬.মারাত্মক অবস্থায় হাত ও পায়ে পানি আসতে পারে।

রক্তস্বল্পতা ল্যাব পরীক্ষাঃ

Hb% কমে যাওয়ার সাথে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো দেখা যায় তা হলোঃ

১.RBC Count কমে যায়।

২.PBF(Peripheral Blood Film) করলে RBC এর নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো পাওয়া যায়ঃ Anisocytosis,Microcytosis, Hypochromic, Poikilocytosis, Target Cell ইত্যাদি।

রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা ও প্রতিকারঃ

১.আমিষ যুক্ত খাবার বেশি বেশি খেতে হবে মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি। এর সাথে লৌহযুক্ত খাদ্যও বেশি খেতে হবে যেমন,কাঁচা কলা,কচুশাক,কাঁচা পেয়ারা ইত্যাদি। আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে সহজে রক্তস্বল্পতা দূর করা যায়।

২.বাংলাদেশের রক্তস্বল্পতার অন্যতম প্রধান কারণ কৃমি। এই কৃমি শরীর থেকে প্রচুর রক্ত চুষে খায়। এছাড়া খাদ্যনালীতে ক্ষত করে ও ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত হয়। এভাবে কৃমি শরীরে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করে।

তাই কৃমি ওষুধ খাওয়ার দরকার। কৃমি রোগের কারণ, কৃমির প্রকারভেদ ও কৃমি রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে একটি পোস্ট আমাদের ওয়েবসাইটে করা হয়েছে আপনি যদি চান এই লিঙ্কে ক্লিক করে সে সম্পর্কে পড়তে পারেন

৩.গর্ভবতী মাকে পর্যাপ্ত  শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, কলিজা বা গোশত  ছাড়াও অতিরিক্ত লৌহ জাতীয় ট্যাবলেট গর্ভবস্থায় ৩ মাস পরে দিতে হবে।

৪.শিশুকে ৫ থেকে ৬ মাস বয়স থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য পরিপূরক খাবার না দিলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

.যদি Hb% -40-60% হয় তাহলে মুখে লৌহের ট্যাবলেট বা সিরাপ (২০০ মিলিগ্রাম, পুতির ট্যাবলেট/ চামচ) ২০০ মিলিগ্রাম দিনে ৩বার খাওয়ার পর কয়েক মাস খেতে হবে। শিশুকে ( ১৫ – ৩০ মিলিগ্রাম) প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩বার খাওয়ার পর দিতে হবে।( আয়রন খেলে পায়খানার রং কালো এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে )। যদি Hb% – 40% এর কম হয় তাহলে রক্ত বা ইনজেকশন দেওয়া লাগতে পারে যা হাসপাতালে দেওয়া উচিত।

রক্তস্বল্পতা হলে যেসব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবেঃ

কোন কোন রক্তস্বল্পতায় কোন ক্রমেই আয়রন দেওয়া যাবে না ( যেমন থ্যালাসিমিয়া, হেমোলাইটিক এনিমিয়া, মেগালোব্লাস্টিক এনিমিয়া ইত্যাদি)। এসব রক্তস্বল্পতায় আয়রন দিলে কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আয়রন দেহে সঞ্চিত হয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।

তখন  শরীর থেকে আয়রন বের করে দেয়ার ঔষধ দিতে হয় যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং রক্তস্বল্পতার কারণ ও প্রকার জেনে আয়রন নিতে হয় নতুবা হিতে বিপরীত হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন, নিজে সুস্থ থাকুন অপরকে সুস্থ রাখুন, সকলকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *