শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবে

Sport News

শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবেঃ

আসসালামু আলাইকুম ourbdtips.com এর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আসুন আমরা সকলেই জেনে নিই। শিশুদের সাধারণ রোগ ব্যাধি কি কি ? এবং কিভাবে শিশুদের সাধারণ রোগ ব্যাধি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় ?

প্রতিদিন পৃথিবীতে যত শিশু মারা যায় তার প্রতি ২০ জনের একজন বাংলাদেশি শিশু। জন্মের পর থেকেই আমাদের শিশুরা নানা রোগব্যাধির শিকার হয়।এসব রোগের মধ্যে কতগুলো আছে যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু প্রতিরোধ না করতে পারার কারণ আমাদের আর্থ সামাজিক অবস্থা স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব।

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই শিশুর সুস্থতা এবং স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা সবার কাম্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৪ লক্ষ শিশু। তাদের প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। বিভিন্ন রোগের কারণে এসব মৃত্যু হয়ে থাকে। বড়দের যে রোগ হয় শিশুদেরও সে সব রোগ হতে পারে। তবে  আমাদের দেশে শিশুরা সাধারণত যেসব রোগে ভুগে থাকে তা হচ্ছে :

নিউমোনিয়া(এ আর আই), ডায়রিয়া, অপুষ্টিজনিত রোগ, যেমন(রাতকানা,কোয়াশিয়রকর,ম্যারাসমাস) যক্ষা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, পোলিওমাইলাইটিস,(পোলিও) হাম,জন্ডিস, মাম্পস, টাইফয়েড জলবসন্ত, রক্তস্বল্পতা, কৃমিরোগ, টনসিলাইটিস, কানপাকা রোগ, খিচুনি, মেনিনজাইটিস, একিউট গ্লোমেরুল নেফ্রাইটিস(এ জি এন) নেফ্রোটিক সিনড্রোম,স্ক্যাবিস,উপরের প্রথম ১০টি রোগ টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়। শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

সরকারিভাবে ১-৬ পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয় এবং ৭-১০ পর্যন্ত রোগগুলো টিকা বেসরকারিভাবে দেয়া হয়। শিশুদের রোগের লক্ষণ,বিস্ততি এবং চিকিৎসা ধরন বড়দের থেকে বেশ আলাদা। শিশুদের বেলায় যে কোনো সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। যে রোগে বড়দের বেশি ক্ষতি বা মৃত্যু হতে কয়েকদিন বা সপ্তাহ লাগে। সে রোগে শিশু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যেতে পারে।

সরকারিভাবে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য ৬টি শিশু রোগ:শিশুকে সময়মতো টিকা দানের মাধ্যমে ৬ টি মারাত্নক রোগের হাত থেকে রক্ষা করাযায়।এগুলোহচ্ছেঃ ধনুষ্টংকার,যক্ষা,পোলিও,হাম,ডিপথেরিয়া,ও হুপিংকাশি। শিশু জন্মের পর পরই যে টিকাটি তাকে দিতে হবে তার নাম বিসিজি টিকা।এই টিকা শিশুকে যক্ষার হাত থেকে রক্ষা করে ।

শিশুর ছয় সপ্তাহ বা দেড় মাস বয়স থেকে কাকে ডি পি টি ও পোলিও টিকা দেওয়া শুরু করতে হবে ৩ ডোজের এই  টিকার দ্বিতীয় ডোজ ১০ সপ্তাহ বয়সে এবং তৃতীয় ডোজটি শিশুর ১৪ সপ্তাহ বয়সে দিতে হবে। এছাড়া শিশুর বয়স যখন৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়বে তখন শিশুকে হামের টিকা এবং সেই সঙ্গে পোলিওর চতুর্থ ও শেষ ডজোটি দিতে হবে।শিশুর এক বছর বয়সের মধ্যে সব কয়টি টিকা দেওয়া শেষ করতে হবে। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় ধনুষ্টংকার দুটি ডোজ টিকা দেওয়া হলে মা ও শিশুর ধনুষ্টংকার হয় না। শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

শিশুর রোগীর পরীক্ষাঃ

যেকোনো রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রধান যে দুটি বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হয় তা হলঃ ১.রোগের ইতিহাস নেওয়া,২. রোগীকে ভালোভাবে পরীক্ষা করা শিশুদের বেলায় এ দুটো কাজই অত্যন্ত কঠিন।শিশুকে অত্যন্ত যত্ন সাথে এবং শিশুর সুবিধামতো উপায়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং রোগের ইতিহাস জেনে নিতে হবে।

১. শিশুর রোগের ইতিহাস নেওয়াঃ শিশুরা যেহেতু নিজে তার রোগের কথা বলতে পারেনা তাই তার রোগের ইতিহাস জেনে নিতে হবে শিশুর মায়ের কাছ থেকে অথবা নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে মাই শিশু রোগের সবচেয়ে সঠিক এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে পারেন।

মায়ের কাছে জেনে নিতে হবেঃ

শিশুর রোগের বর্তমান ইতিহাস অর্থাৎ এর আগে কখনো জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাম, হুপিংকাশি, খিচুনি, যক্ষা ইত্যাদি হয়েছিল কি না।

শিশুর জন্মের ইতিহাসঃ

জন্মের পূর্বে গর্ভাবস্থায় কোন সমস্যা ছিল কি না, জন্মের কালে অথবা পরপরই কোন সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না। একেবারে ছোট অবস্থায় কোন রোগ-ব্যাধি ছিল কিনা ইত্যাদি। শিশু কী খায় অথাৎবুকের দুধ খায়, নাকি বোতলের দুধ খায় এখন কি খাচ্ছে কয়বার খাই ইত্যাদি। শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

শিশুর বেড়ে উঠাঃশিশুর বেড়ে উঠা ঠিকমত হচ্ছে কি না।

টিকাঃ শিশুকে সবগুলো টিকা সঠিক সময় দেওয়া হয়েছে কি না।

ঔষধঃ এর আগে কি কি ঔষধ খেয়েছে।

পারিবারিক ইতিহাসঃ পরিবারে আর কারো এ জাতীয় রোগ আছে কিনা, গর্ভবস্থায় মায়ের কোনো রোগ ধরা পড়েছিল কিনা, বাবা-মায়ের আয়-রোজগার কেমন,পরিবারের খাবার পানির উৎস কি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা আছে কিনা  ইত্যাদি । শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

শিশুর পরীক্ষাঃ

 শিশুর পরীক্ষা করা অত্যন্ত কঠিনএকটি কাজ। কারণ শিশুরা অপরিচিত লোককে দেখলে শুরুতেই খানিকটা ঘাবড়ে যায় এবং অধিকাংশ শিশুই কান্নাকাটি শুরু করে। তাই শিশুকে পরীক্ষার আগে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। শিশুর হাত দেওয়ার পূর্বে যতদূর সম্ভব চোখের সাহায্যে শিশুকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে শিশুর বেলায় হাত দিয়ে বা যন্ত্রপাতির সাহায্যে দেখা যে চোখের দেখা গুরুত্বপূর্ণ ।

কারণ শিশুর শরীরে হাত দিলে বা স্টেথোস্কোপ বসালে। সে যদি কান্নাকাটি শুরু করে তাহলে আর তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় এনে পরীক্ষা করা সম্ভব না হতে পারে। শিশুকে তার অভ্যস্ত পরিবেশে রেখে পরীক্ষা করতে হবে। শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত আশ্রয় তার মায়ের কোল। তাই শিশুকে তার মায়ের কোলে রেখেইযতদূর সম্ভব পরীক্ষা কাজগুলো সেরে নিতে হবে।

শিশুর হাতে কোন প্রকার খেলনা,স্টেথো,টচ, ইত্যাদি দিয়ে তাকে  অন্যমনস্ক রেখে তারপর পরীক্ষা করতে হবে। বয়স্কদের পরীক্ষার সময় যেভাবে বিভিন্ন অঙ্গের ধারাবাহিক পরীক্ষা করা হয় যেমনঃ শ্বাসতন্ত্রের পরীক্ষা,পরিপাক তন্তের পরীক্ষা ইত্যাদি। শিশুদের বেলার  কিন্তু সেভাবে পরীক্ষা করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে মাথার তালু থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত উপর থেকে নিচে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে করে আসতে হবে। শিশুর সাধারণ রোগ ব্যাধি ও কিভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

শিশুর সাধারণ পরীক্ষাঃ

 সাধারণভাবে একজন বয়স্ক লোককে আমরা যেভাবে পরীক্ষা করি যেভাবে পরীক্ষা করি,শিশুকে ও সেভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

শুধু অতিরিক্ত যে কাজগুলো করতে হবে তা হলঃ

শিশুর বাহুর মাঝ বরাবর ঘের কতটুকু তা মেনে নিতে হবে।শিশুর ওজন ও উচ্চতা মেপে নিতে হবে। মুখের ভেতর টচের আলোর সাহায্যে দেখে নিতে হবে টনসিল ফুলেছে কিনা। টনসিলের উপর কোনো পাতলা পর্দা বা আবরণ পড়েছেকিনা।কিংবা মুখের তালুতে কোনো ছিদ্র আছে কিনা।গলার দু’পাশে চোয়ালের নিচে হাত দিয়ে দেখে নিন গ্যান্ড ফুলেছে কিনা। কানে কোনো সংক্রমণ আছে কিনা, কান দিয়ে পুঁজ বের হয় কিনা, ঘাড় শক্ত হয়েছে কিনা।

শিশুদের সাধারণ রোগ ব্যাধির মধ্যে যদি কোন একটি হয়ে থাকে তাহলে তাকে  তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে খাওয়া-দাওয়া করাতে হবে ঠিকমতো ঔষধ খাওয়াতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে শিশু ঠিকমতো পায়খানা করতেছি কিনা। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো খাচ্ছে কিনা।এসব জিনিস গুলো আমাদের সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।মনে রাখতে হবে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ কথা মাথায় রেখে আমাদেরকে সকলকেই শিশুদের যত্ন নিতে হবে।

সকলেই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন অপরকেও সুস্থ রাখুন । সকলকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *