হার্ট অ্যাটাকের কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকার

Sport News

হার্ট অ্যাটাকের কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকারঃ

হৃদপিন্ডের কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করা। আর হৃদপিন্ডের নিজের জন্য খাদ্য অর্থাৎ রক্ত সরবরাহ করে থাকে করোনারি ধমনীর মাধ্যমে। করোনারী আটারি কোন কারনে ব্লক হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের পেশীর যে অংশটিতে রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয় হাটের সেই পেশীটা বা অংশটা নষ্ট হয়ে যায়। করোনারি আর্টারীর ব্লক হওয়ার জন্য হৃদপিন্ডের পেশির কিছু অংশে সাময়িক রক্ত সরবরাহে বাধা প্রাপ্ত হওয়াকে ইস্কেমিক বলা হয়।

করোনারি আর্টারিতে চর্বি জমা হয়ে রক্ত চলাচলে আংশিক বাধা সৃষ্টি করে। তার সঙ্গে  রক্ত জমাট বাধলে আঠার সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে যায়।করোনারি আর্টারিতে রক্ত চলাচল আংশিক হলে মুখ ব্যথা অনুভূত হয়। তাকে আমরা চিকিৎসা পরিভাষায় এনজাইনা বলি। করোনারি আর্টারি সম্পূর্ণ ব্লক হলে হৃদপেশীর মৃত্যু বা ইনফারকশান হয় অর্থাৎ এই ব্লগের সময়কাল যদি ২০থেকে৩০ মিনিটের বেশি থাকে তাহলে হার্ট অ্যাটাক (M.I) হয়ে যায়।

ইস্কেমিক হৃদরোগ উন্নত দেশগুলোতে মৃত্যু অন্যতম প্রধান কারণ। তবে গরিবরাও এ রোগে আক্রান্ত হন। ইউরোপে প্রতি ৪জনে ১জন পুরুষ এবং প্রতি ৫জনে ১জন মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন। উন্নত দেশগুলোতে তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য ইস্কেমিক  হূদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুবরণের হার কমেছে। দুর্ভাগ্যবশত এ রোগের হার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাড়ছে।

১৯৯৭ সালে ঢাকাস্থ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ১৬৪৮ জন হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মধ্যে পর্ন ২৫৩ জনের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে এবং ৩৬ জন ছিল বয়স ৩০ এর নিচে। অর্থাৎ পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির খেতে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেশি হলেও ইদানীং দেখা যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীও এতে আক্রান্ত হচ্ছে।হার্ট অ্যাটাকের কারণ,লক্ষণ ও প্রতিকার।

হার্ট অ্যাটাকের কারণঃ

হার্ট অ্যাটাকের কতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা নিম্নরূপ,

১.অনিয়ন্ত্রণযোগ্য রিক্স ফ্যাক্টরঃ

বয়স -বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইস্কেমিক হৃদরোগ হবার সম্ভাবনা বাড়ে। বংশগত- মা-বাবার হৃদরোগ থাকলে ছেলেদের হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। লিঙ্গ- পুরুষদের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি‌।

২.নিয়ন্ত্রণযোগ্য রিক্স ফ্যাক্টরঃ

এমন কিছু সংখ্যক ফ্যাক্টর  যা জীবনযাত্রার ধারা পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করে আটকের মাত্র অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এগুলো হচ্ছে,

৩.ধূমপানঃ

ধূমপান ও ইস্কেমিক  হৃদরোগের  (দুজনে –দুজনার ) একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তামাকের নিকোটিন ধমনীর সংকোচন করে রক্ত সরবরাহ কমায় ও কার্বন মনোঅক্সাইড হৃদপেশীর অক্সিজেন সরবরাহ কমায়।

৪.উচ্চ রক্তচাপঃ

রক্তচাপ যতই বাড়বে হৃদরোগের ঝুঁকিও ততই বাড়বে  সুতরাং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য।

৫.রক্তে চর্বির আধিক্যঃ

রক্তে কোলেস্টেরল দুই রকম অবস্থায় বিদ্যমান। একটি ভালো অর্থাৎ উপকারী যার নাম এইচ, ডি ,এল,বা high-density লাইপোপ্রোটিন অপরটি ক্ষতিকর যার নাম এল, ডি, এল,বা লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন। রক্তে এল,ডি,এল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড এর পরিমাণ বেশি হলে ইস্কেমিক হৃদরোগ  সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৬.ডায়াবেটিস মেলিটাসঃ

ডায়াবেটিসের সাথে ইস্কেমিক হৃদরোগর একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যদি তার সাথে স্থূলতা এবং শারীরিক অলসতা ভাব নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হয়।

৭.শারীরিক ও মানসিক চাপঃ

শারীরিক পরিশ্রমের অভাব যাদের মধ্যে এবং মুঝে সব মানুষ খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী অস্থিরোগ কোনো না কোনো লক্ষ্যের পেছনে ছুটেন টেনশন জীবনযাপন রান করেন তাদের মধ্যে হৃদ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৮.মদ্যপানঃ মদ্যপান  হৃদরোগের হবার  ঝুঁকি বাড়ায় ।

৯.শারীরিক সক্রিয়তা বা কমশীলতার অভাবঃ

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় । তাই প্রত্যেকের কমপক্ষে সপ্তাহে ৪ দিনে ৩০থেকে ৪৫ মিনিট মুক্ত বায়ুতে দ্রতা হাঁটা,সাইকেল চালনা, এ ধরনের ব্যায়াম করা উচিত।

১০.মোটা বা অতিরিক্ত ওজন হওয়াঃ

মোটাদের হৃদরোগের হবার  ঝুঁকি অধিক। রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড ও এল, ডি, এল, কোলেস্টেরল বেশি হওয়ায়।

১১.খাদ্য স্মরণীয় কারণঃ

দেখা গেছে খাদ্য যদি তাজা ফল,শাক-সবজি এবং পলি-আন-সেচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের সাথে তাহলে ইস্কেমিক হৃদরোগ হওয়ার  সম্ভাবনা বেড়ে যায়। উদ্ভিজ্জ তেল  পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এসিড পাওয়া যায় ।

১২.চর্বিজাতীয় খাবারঃ

চর্বিজাতীয় খাবার যেমন- ডিমের কুসুম, গরু-খাসির মাংস, দুধ খাবার, মাখন,পনির, ফ্যাটি এসিডের উপস্থিতি থাকে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি  বাড়ায়। ভিটামিন সি,ভিটামিন ই এবং অন্য এন্টি-অক্সিডেন্ট ইত্যাদি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও উপসর্গঃ

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ হলো বুকে তীব্র ব্যথা। তবে রোগী শ্বাসকষ্ট বমি গলা চেপে ধরার অনুভূতি দৈহিক অবসন্নতা নিয়ে আসতে পারে। হঠাৎ মূর্ছা যেতে পারে।

ব্যথা বাম, কাধ, হাত, চুয়াল এবং সারা বুকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে আক্রমণ তীব্র এবং বেশি। কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী ও বৃদ্ধরা তেমন ব্যথা অনুভব করে না। এসব রোগীর শ্বাসকষ্ট নাড়ির অনিয়মিত গতিস্পন্দন এবং দৈহিক অবসন্নতা ক্ষেত্রে অবশ্যই ইসিজি করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাকের রোগী নানা রকম জটিলতা নিয়ে আসতে পারে। এ সমস্যা ও জটিলতা হূদরোগ বিশেষজ্ঞগণ নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বুঝে থাকেন ‌।কখনো কখনো লক্ষণ অল্প সময়ের মধ্যে ভালো হয়ে গেল পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসাঃ

১.প্রথমেই রোগীকে বিশ্রামের ও পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে।অর্থাৎ যে কোনো কাজ করুন না কেন সেটি বাদ দিয়ে বসে এবং সম্ভব হলে শুয়ে পড়তে হবে।

২.রোগীকে ১টি (Aspirin 300) মিলিগ্রাম জাতীয় ঔষধ খাওয়াতে হবে সেইসাথে Ranitidinও Antacid) জাতীয় ঔষধ।

৩.নাইট্রেট জাতীয় ঔষধ জিব্বার নিচে দিতে হবে‌। এনজাইনা পেকটোরিসের বুক ব্যথার এটি ভালো কাজ করে।

৪. রোগীকে আশ্বস্থ করতে হবে এবং সেইসঙ্গে রোগীর লোকজনদের রোগীকে অক্সিজেনের সু-ব্যবস্থা সহ অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা সাহায্যে সঠিক রোগ নির্ণয় করে। সুচিকিৎসা জন্য হাসপাতালে জরুরিভাবে নেওয়ার পরামর্শ দিতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধঃ

হৃদরোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল অন্তত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে। কাজেই আমাদেরকে রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য যা অবশ্যই পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।

১.ধূমপান হৃদরোগের প্রধান সহায়ক। অতএব ধূমপান হতে বিরত থাকা।

২.চর্বি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে ‌‌। যেমন -ডিমের কুসুম, পশুর চর্বি,ঘি,মাখন,দুধের সর, পনির,ডালডা,গরু ও খাসির মাংস, ও চিংড়ি মাছ ইত্যাদি।

৩.ছোট বড় মাছ শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে।

৪.উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৫.শরীরে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে।

৬. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে।

অযথা দুশ্চিন্তা না করে ধর্মীয় উপাসনা করতে হবে এবং পরিবারের সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন নিজে সুস্থ থাকুন অপরকে সুস্থ রাখুন। সকলকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *